পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে ২য় সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পুরস্কার বিতরণ, দেয়ালিকা উদ্বোধন ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক মো. আরিফ উল্লাহর সঞ্চালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টইটং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক পেকুয়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. বেলাল উদ্দিন, পশ্চিম সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমরান সাইফুল, অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম, অভিভাবক ও সাংবাদিক মো. ফারেকুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মুবিনুল হক। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফরিদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত হয়ে ওঠে না। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে তারাই সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সোনালী ব্যাংক পেকুয়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো বিদ্যালয়জীবন। এ সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে তারা যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সময়ের মূল্য বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদেরও বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পশ্চিম সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমরান সাইফুল বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও সাংবাদিক মো. ফারেকুল ইসলাম বলেন, সন্তানের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে কি না, সেটিও অভিভাবকদের গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। বিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞান দেয়, আর পরিবার তাকে মূল্যবোধ ও আচরণের শিক্ষা দেয়। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকা জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বিত বিকাশই অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের জন্য নয়, ভবিষ্যতের যোগ্য, সৎ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবকেরা বলেন, নিয়মিতভাবে ফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে দেয়ালিকা প্রকাশের মতো সৃজনশীল উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তাঁরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ আরও বাড়ানোর দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ২য় সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। পরে বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয়ের দেয়ালিকা উদ্বোধন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে প্রকাশিত দেয়ালিকায় তাদের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, চিত্রকর্মসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ স্থান পেয়েছে।
অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও মানসম্মত, সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী করতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথি, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অঙ্কুর বিদ্যাপীঠের কর্তৃপক্ষ।
